Martyred Intellectuals | সার্জেন্ট সামসুল করিম খান
862
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-862,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

সার্জেন্ট সামসুল করিম খান

জন্ম – ১৯৩০

“মুক্তির মন্ত্রে জাগিয়েছেন যিনি”

ডাক্তার বাবার কর্মস্থল বার্মাতে জন্ম নেন সার্জেন্ট সামসুল করিম খান । বাবার শ্রবণশক্তি বিনষ্ট এবং অসুস্থতার কারণে তাঁরা পুরো পরিবার গ্রামে ফিরে আসেন। ১৯৪৮ সালে স্থানীয় কালিগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন তবে পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে পড়াশোনা আর চালিয়ে যেতে পারেননি।

১৯৪৯ এ যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। চাকরিতে নানা রকম লোভনীয় প্রস্তাব পান তিনি। কিন্তু  দেশমাতৃকার টানে তিনি কখনও লোভের কাছে মাথা নত করেননি। সামসুল করিম খান অত্যন্ত জেদি ও একরোখা প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তাঁর এই স্বভাবের কথা সেনাবাহিনীর সবাই জানতেন। দেশের বিরুদ্ধে কোনো কিছু বললে সেটার প্রতিবাদ করতেন সম্মুখে। যার কারণে তার পদোন্নতি আটকে থাকতো দিনের পর দিন। পশ্চিম পাকিস্তানের মারিপুর, সারগোদায় বাঙালির পরিমাণ অতি কম ছিলো। যার কারণে এখানে একজোট হওয়া রীতিমত অসম্ভব ছিলো। তিনি সুযোগ খুঁজছিলেন দেশে ফেরার। পেয়েও গেলেন, তাঁর কাছে প্রস্তাব এলো। হয় ঢাকা, নয়তো কুয়েত। তিনি ঢাকাকে বেছে নিলেন পরবর্তী পোস্টিং এর জন্য। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকায় ফিরে এলেন।

১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্য অনেক অফিসারসহ সামসুল করিম খানকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পাঠিয়ে দেয়া হলো। মূলত সরিয়ে দেয়া হলো ঢাকা থেকে। আর্মির নির্দেশানুসারে সেখানেই তিনি অবস্থান করেন এবং একজন যোদ্ধা হিসাবে আবির্ভূত হন। গ্রামবাসীকে অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন ব্যাপারে ট্রেনিং দিতে থাকেন, পাশাপাশি দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন বুনতে থাকেন।

তিনি যখন পাবনায় আর প্রিয়তমা স্ত্রী বাচ্চাসহ অবস্থান করছিলেন ঢাকার কুর্মিটোলায়। নিজের পরিবারের সাথে দেখা করতে এসে দেখেন সেখানে তালা ঝুলছে। উপরের তলার মানুষদের কাছে জানলেন তারা নিরাপদে ঢাকা ছেড়েছে। ফিরে চলে আসার সময় উপরের তলার ভদ্রলোকের অনুরোধে খেতে বসেছিলেন। ঠিক তখন আর্মিরা এসে তাঁকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ১৯ এপ্রিল রাতে সার্জেন্ট সামসুল করিম খানসহ আরও ৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।