Martyred Intellectuals | শহীদুল্লা কায়সার
873
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-873,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

শহীদুল্লা কায়সার

জন্ম – ১৯২৭

“ন্যায়ের আন্দোলনে একজন ধ্রুপদী সংশপ্তক”

শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মাজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা। তাঁর বাবার নাম মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্ এবং মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন।

ছাত্রজীবন থেকেই শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন লেখক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথিকৃৎ। ১৯৪২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁরপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন ‘প্রেসিডেন্সি কলেজ’-এ ৷ দেশবিভাগের পর তাঁর বাবা ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ অর্থনীতিতে ভর্তি হন। তবে ডিগ্রি অর্জনের আগেই তিনি পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটান।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠন হবার সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৪৯ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে বহুবার জেলে যেতে হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে তিনি দৈনিক সংবাদে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই কাজ করে যেতে থাকেন। তাঁর লেখা সাহিত্যকর্মগুলো হলো সারেং বৌ, সংশপ্তক, রাজবন্দীর রোজনামচা, পেশোয়া থেকে তাসখন্দ। তাঁর পাওয়া পুরস্কারগুলো হলো আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৮)।

যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় আসন্ন তখন তারা স্থানীয় রাজাকারদের সমন্বয়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদুল্লা কায়সারকে তাঁর বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তাঁর খোঁজ আর পাওয়া যায়নি। সারাজীবন তিনি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে গিয়েছেন, সেই স্বপ্নের আলোকবর্তিকা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।