859
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-859,page-child,parent-pageid-646,stockholm-core-1.0.9,select-theme-ver-5.1.8,ajax_fade,page_not_loaded,wpb-js-composer js-comp-ver-6.0.3,vc_responsive

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুল কাদির

জন্ম – ১৯২৯

“একজন বিশ্বস্ত গাদ্দার-এর কথা”

ছোটবেলা থেকে ডানপিটে হিসেবে এলাকায় বিখ্যাত ছিলেন তিনি। প্রতিবেশীদের জ্বালিয়ে মারতেন বলে নিয়মিত বাবার হাতে পিটুনি খেতে হতো লেঃ কর্নেল আবদুল কাদিরকে। জানুয়ারি ১৯২৯ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন আবদুল কাদির। রংপুর জিলা হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কারমাইকেল কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিলো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার কিন্তু এক মেজরের উপদেশে তিনি আর্মিতে জয়েন করেন।

১৯৪৯ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কোর-এ কমিশন লাভ করেন। ১৯৬২ সালে আর্মির খরচে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বের হন। ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনীয়াতে তাঁকে পাঠানো হয় অফিসার্স ক্যারিয়ার কোর্স করার জন্য। সে সময় একজন বাঙালির এই অর্জন ছিলো বিরল। ১৯৬৬ সালে তিনি লেঃ কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তখন একজন পাঞ্জাবি বাঙালিকে হেয় করে “ইয়ে বাঙালি, ইধার আও” বলায় তিনি তাকে একটা চড় মেরে বলেন, “আমাকে গালাগাল করতে পারো, তবে আমার জাতিকে নিয়ে কটুক্তি করতে পারবে না”। এই কারণে তাঁর প্রায় কোর্ট মার্শাল হয়ে যাচ্ছিলো। লেঃ কর্নেল আবদুল কাদির ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও দেশপ্রেমিক একজন মানুষ। দেশের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি ভাবতেন, স্বপ্ন দেখতেন।   যুদ্ধের সময় সেনানিবাস থেকে গোপন তথ্য স্বাধীনতাকামীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এমনকি যুদ্ধের প্রস্তুতিকালে মাইন বিস্ফোরকও পৌঁছে দিয়েছেন।

মুজিবনগর সরকার গঠিত হলো। এদিকে লেঃ কর্নেল আবদুল কাদিরের বাড়িতে কড়া নাড়লো পাকিস্তানি আর্মি। দুটি কুকুরসহ কিছু আর্মি ঢুকে পুরো বাড়ি তছনছ করে ভেতরের ঘরে প্রবেশ করলো। আবদুল কাদিরকে দেখে পাকিস্তানি আর্মি হুংকার দিলো, “তুমি গাদ্দার, তৈরি হয়ে যাও। আমাদের সাথে যেতে হবে”। তারপর একটা নীল জিপ তুলে নিয়ে গেলো লেঃ কর্নেল আবদুল কাদিরকে। সেদিন ছিলো ১৭ই এপ্রিল, এরপর আর কখনোই ফিরে আসেননি তিনি।