Martyred Intellectuals | লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন
877
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-877,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন

জন্ম – ১৯৩৩

“অপরাজেয় এক মানবতাবাদীর কথা”

নৌবাহিনীর অফিসার, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৩৩ সালে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রয়্যাল নেভাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অব ম্যানাডন, ইউকে থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম শ্রেণির একজন মেরিন স্পেশালিস্ট।

১৯৫০ সালে মোয়াজ্জেম হোসেন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। একই বছর তিনি ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে নেভাল বেস চট্টগ্রামে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৯৬৭ সালে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পদে উন্নীত হন। বাঙালি জনসাধারণের অধিকার রক্ষাকর্তা হিসেবে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তিনি ছিলেন একজন অভিযুক্ত আসামী। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংগঠিত করার অভিযোগ আনা হয়। সে মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করা হয় এবং দ্বিতীয় প্রধান আসামী করা হয় মোয়াজ্জেম হোসেনকে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি মুক্তি পান। ১৯৭০ সালে তিনি ‘লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করেন। পরে এই কমিটির নাম হয় ‘জাতীয়তাবাদী দল’।

২৫শে মার্চের কালরাতের সামরিক অভিযানে তাঁকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁর এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। অনেকবার তাঁকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তানি ঘাতকেরা, কিন্তু প্রতিবারই তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দ্বিগুণ সাহসে, উদ্যমে। মরণেও তাঁর সেই প্রতিবাদের ভাষাই যেন ভাস্বর হয়ে আছে।