Martyred Intellectuals | লুৎফুন নাহার হেলেনা
908
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-908,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

লুৎফুন নাহার হেলেনা

জন্ম – ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৪৭

“হেলেনা- এক বহ্নিশিখার নাম”

লুৎফুন নাহার হেলেনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাগুরা শহরে। ১৯৬৮ সালে বিএ পাশ করার পরে মাগুরা গার্লস হাইস্কুলে (বর্তমানে সরকারি গার্লস হাইস্কুল) সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন।

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মাগুরার আঞ্চলিক শাখার নেত্রী এবং মাগুরা কলেজের ছাত্রী সংসদের মহিলা কমনরুম সম্পাদিকা ছিলেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি মাগুরার বাম রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাগুরা শহর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের কর্মসূচির সংবাদ জেনে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর কাছে পাঠাতেন। সেপ্টেম্বরে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের কাজ করার জন্য মহম্মদপুর এলাকায় যান। সেখানে নারীদের বিশেষত ভূমিহীন গরিব কৃষক পরিবারের নারীদের অনুপ্রাণিত করেন। পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া-দাওয়া, দেখাশোনা ও অসুস্থদের সেবা যত্নে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন।

পাকিস্তানীদের দোসর ঘাতক দালাল রাজাকাররা তাঁকে মাগুরা জেলার মোহম্মদপুর উপজেলার এক গ্রাম থেকে শিশুপুত্রসহ আটক করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। একাত্তরের ৫ অক্টোবর, পবিত্র শবে- বরাতের রাতে পাকিস্তানি সেনারা অমানবিক ও নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লুৎফুন নাহার হেলেনাকে। হত্যার পর পাকিস্তানি সেনারা তাঁর মরদেহ জিপের পেছনে বেঁধে টেনে নিয়ে যায় শহরের অদূরে নবগঙ্গা নদীর ডাইভারশন ক্যানেলে। ওই ক্যানেলে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ফেলে দেয় তারা। পাকবাহিনীর নির্মমতার শিকার হয় স্বাধীনতার আরেক যোদ্ধা।