Martyred Intellectuals | রণদাপ্রসাদ সাহা
918
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-918,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

রণদাপ্রসাদ সাহা

জন্ম – ১৫ নভেম্বর, ১৮৯৬

“স্বাধীনতার রায় বাহাদুর”

বাংলাদেশের বিখ্যাত সমাজসেবক এবং দানবীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন রণদাপ্রসাদ সাহা। আর. পি. সাহা নামেই তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে হাসপাতাল, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গরীবদের কল্যাণার্থে ট্রাস্ট গঠন করেন। তিনি ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী কলেজ এবং দেবেন্দ্র কলেজের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।  ১৯৪৩-১৯৪৪ সালে দূর্ভিক্ষের সময় তিনি ২৭৫ টিরও বেশি ক্ষুধার্ত পরিবারের জন্য ৮ মাস খাবারের ব্যবস্থা করেন। ১৯৪৪ সালে ২৭ জুলাই তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল স্থাপন করেন। ১৯৪৭ সালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট স্থাপন করেন।

সাত বছর বয়সে মা-কে হারিয়ে পড়াশুনা খুব অল্পই হয়ে ওঠে তাঁর। সৎমায়ের সংসারে সংশয়, অনাদর সহ্য করতে না পেরে অবশেষে পাড়ি জমান কলকাতায়।

জীবনের প্রথমেই জড়িয়ে পড়েন বিদ্রোহী দলের সাথে। স্বদেশী দল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মেসোপটেমিয়া বিচরণ করেন অসীম সাহসিকতাঁর সাথে। এই যুদ্ধের চেতনা দুস্থ এবং দুঃখী জনগণের কল্যাণে এগিয়ে আসতে। মানবতাধর্মী কাজে সম্পৃক্ত থাকায় তৎকালীন বৃটিশ সরকার রণদাপ্রসাদ সাহাকে রায় বাহাদুর খেতাব প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার মানবসেবায় অসামান্য অবদান রাখায় ও তাঁর কাজের যথাযথ স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সাথে রণদাপ্রসাদের ভাল সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে পাকহানাদার বাহিনী রণদা ও তাঁর ২৬ বছর বয়সী সন্তান ভবানীপ্রসাদ সাহা (রবি)-কে তুলে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর তাঁরা বাড়ি ফিরে আসলেও পুনরায় ৭ই মে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁদের আর কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।