Martyred Intellectuals | মুনীর চৌধুরী
875
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-875,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

মুনীর চৌধুরী

জন্ম – ১৯২৫

“রক্তাক্ত প্রান্তরের সাহসী যোদ্ধা”

একনাগাড়ে শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী, বাগ্মী এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে যিনি পরিচিত তিনি মুনীর চৌধুরী। তাঁর পুরো নাম আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

মুনীর চৌধুরী ১৯৪১ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল (বর্তমান ঢাকা কলেজ) থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করেন এবং ১৯৪৩ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে আইএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৬ সালে ইংরেজিতে অনার্স এবং ১৯৪৭ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যেও মাস্টার্স করেছিলেন। মুনীর চৌধুরী তাঁর তৃতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন হার্ভার্ড বিশবিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে, ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে।

১৯৪৯ সালে মুনীর চৌধুরী খুলনার ব্রজলাল কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ঐ বছর মার্চে তিনি ঢাকায় এসে রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে গ্রেপ্তার হন, তবে রাজনীতি না করার প্রতিশ্রুতিতে ছাড়া পান। ১৯৫০ সালের আগস্ট মাসে ইংরেজির অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৪ সালে নিরাপত্তা বন্দী থাকা অবস্থায় এম এ শেষ পর্ব পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে বাংলায় মাস্টার্স ডিগ্রি পাশ করেন। মুনীর চৌধুরী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন। বন্দী থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ রচনা করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব জার্মানির রেমিংটন টাইপরাইটারের সহায়তায় বাংলা টাইপরাইটার কিবোর্ড নতুন করে নকশা করে ‘মুনীর অপটিমা কিবোর্ড’ নামে একটি সংস্করণ বের করেন। তিনি ১৯৬২ সালে নাটক রক্তাত্ত প্রান্তরের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান এবং ১৯৬৫ সালে ‘মীর মানস’ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার পান। ১৯৬৬ সালে তিনি পেয়েছিলেন সিতারা-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কার। ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে সে আন্দোলনে মুনীর চৌধুরী আকন্ঠ সমর্থন যুগিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ করলে মুনীর চৌধুরী হাতিরপুলে তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীসহ আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে সেই বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, মুনীর চৌধুরীকে শেষবারের মতো শারীরিক প্রশিক্ষণ কলেজে দেখা যায়। তাঁর হাতের আঙুলগুলো বীভৎসভাবে ফোলা ছিল। তাঁর মৃতদেহ আর শনাক্ত করা যায়নি। চেতনায়, মানবতায়, কর্মে অবিচল এই মানুষটির জন্য রইলো শ্রদ্ধা।