Martyred Intellectuals | মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ
916
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-916,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ

জন্ম – ১৯৩৩

“ভাষার জন্য ভালোবাসা যার অবিরাম”

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”-র সুরের স্রষ্টা আলতাফ মাহমুদ। ১৯৩৮ সালে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার শিক্ষাজীবন। বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হন ১৯৪৩ সালে। ১৯৪৮ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে কোলকাতা বোর্ডের পরীক্ষা এন্ট্রান্স (এস এস সি) পাশ ও ব্রজমোহন কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে (আই.এস. সি) ভর্তি হন।

১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার পাতারচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা আলতাফ মাহমুদ ১৯৪৯ সালে পণ্ডিত সুরেন রায়ের কাছে বেহালায় হাতেখড়ি নেয়া শুরু করেন। ১৯৫২ মোশাররফ উদ্দীনের রচিত ‘মৃতুকে যারা তুচ্ছ করিল ভাষা বাঁচাবার তরে’ গানটির সুরারোপ করেন। বরিশাল ‘শিল্পী সংসদ’ প্রতিষ্ঠা এবং সে বছর তার কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য নূর আহম্মেদ রচিত ‘আগামী দিন’ ও তারাশংকরের ‘দুই পুরুষ’ নাটকের সংগীত পরিচালনা ও নেপথ্য কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। ১৯৫৩ প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গান – ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’তে দ্বিতীয় সুরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন ও স্থায়িত্ব লাভ করেন আলতাফ মাহমুদ।

১৯৭৭ সালে আলতাফ মাহমুদকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার কারণে তাঁকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। সংস্কৃতিক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় শহীদ আলতাফ মাহমুদকে ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। তাঁকে স্মরণ রাখতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ঢাকা ক্র্যাক প্লাটুনের সঙ্গে যুক্ত হন আলতাফ মাহমুদ । গান রেকর্ড করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রেরণ করতেন । তাঁর ৩৭০ আউটার সার্কুলার রোডের বাসাটি সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ৩০ আগস্ট সকালে পাকবাহিনী আলতাফ মাহমুদের বাসা ঘিরে তল্লাশি চালায়। বাড়ির আঙ্গিনায় মাটি খুঁড়ে তারা এক ট্রাঙ্ক অস্ত্র খুঁজে পায়। পরে পাকবাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।

অতর্কিতে নিভে যায় বাঙালির সুরের এক মহানায়কের আলো।