897
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-897,page-child,parent-pageid-646,stockholm-core-1.0.0,select-theme-ver-5.0.6,ajax_fade,page_not_loaded,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

নূতন চন্দ্র সিংহ

জন্ম – ১ ডিসেম্বর, ১৯০০

“সাদা মনের একজন মানুষ”

নূতন চন্দ্র সিংহ জন্মগ্রহন করেন ১লা ডিসেম্বর, ১৯০০ সালে রাউজানের গহিরা গ্রামে।

ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবার সাথে ব্যবসায় যুক্ত হয়ে যান। বাবার সাথে আরাকানে সাবান ও ঔষধের ব্যবসা করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে দেশে ফিরে ১৯৪৬ সালে কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং নানা উন্নয়নশীল সামাজিক কার্যকলাপে।

২৫ মার্চ কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনী সারা বাংলায় ইতিহাসের নিকৃষ্ট গণহত্যা শুরু করলে তৎকালীন বিশিষ্ট নেতারা তাঁর সহায়তায় ভারতবর্ষে পাড়ি জমান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০/২১ জন শিক্ষককে তিনি সপরিবার আশ্রয় দেন এবং সীমান্ত পাড়ি দিতে তাঁদের পূর্ণ সহায়তা করেন। এমন দুঃসময়েও তিনি কুন্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। “স্বাধীন দেশে সব শিক্ষিত মা”- এই ছিল তাঁর স্বপ্ন। বন্ধু ও স্বজনরা তাঁকে বারাবার সীমান্ত পাড়ি দিতে অনুরোধ করলেও তাঁর ছিল এক কথা- “ আমি জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। এই শেষ বয়সে নিজের দেশ, নিজের মাটি আর আরধ্যা দেবী মা কুন্ডেশ্বরীকে ফেলে কোথাও যাবো না। আমি তো কারো ক্ষতি করিনি। যদি এখানে আমার মৃত্যু হয় তাহলে জানবো-এই ছিল আমার নিয়তি।

১৩ই এপ্রিল স্থানীয় দোসরদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় পাকবাহিনী দেশপ্রেমিক এই মানুষটিকে তাঁর গৃহমন্দিরের সামনে বুকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে।