Martyred Intellectuals | ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
912
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-912,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

জন্ম – ১৮৮৬

“বাংলা আর বাংলাদেশের অস্তিত্ব যাঁর প্রতিটি রক্তবিন্দুতে ছিল”

বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কলকাতা রিপন কলেজ থেকে বি.এ এবং ল পাশ করেন।

১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করে প্রথমবারের মত কারাগারে যান। ১৯৪৮ সালে  পাকিস্তান সংবিধান পরিষদের প্রথম অধিবেশনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুইটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন,

– বছরে অন্তত একবার ঢাকায় পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠান

– উর্দু আর ইংরেজির সাথে বাংলাকেও গন-পরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহার। এই ঘটনা জন্ম দেয় প্রথম ভাষা আন্দোলনের। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৯৭১ সালে কুমিল্লায় অবসর-জীবন কাটাচ্ছিলেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে ৮৪ বছর বয়সে তিনি গ্রাম গ্রাম ঘুরে আওয়ামীলীগের জন্য প্রচার কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন শুধুমাত্র এই আশায় যে বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবেই।

মার্চ মাস থেকে যখন দেশের অবনতি হচ্ছিলো তখন তিনি বলতেন, অন্ধকারের ওপারে আলো এগিয়ে আসছে, তোমরা কেউ নিরাশ হবে না।

২৫ মার্চ রাত থেকে যখন গণহত্যা শুরু হলো তিনি সবাইকে বলতেন রেডিও , কাগজ সব থেকে খবর সংগ্রহ করতে। পাগলের মত বিবিসি, এবিসি, ভোয়া, আকাশবাণী, ঢাকার খবর শুনতে চেষ্টা করতেন। খবর পাওয়া গেলো- ২৫ মার্চের রাতে শেখ সাহেবকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২৬-২৭ তারিখ কাটলো ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অসহ্য যন্ত্রণায়। ২৮ মার্চ দুপুরে কিছুক্ষণের জন্য কারফিউ তুলে নিলে ঐ সময় অনেকে এসে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে গেলেন। রাত দেড় টার দিকে ৪-৫ জন মিলিটারি বিকট আওয়াজ করতে থাকলো সদর দরজায়। অন্ধকারে তাঁরা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং পুত্র দিলীপ দত্তকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। তারপর তাঁদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেকদিন পরে জানা যায় ১৪ এপ্রিলের দিকে অকথ্য নির্যাতন করে মারা হয় তাঁকে।