Martyred Intellectuals | ডা. সুলেমান খান
902
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-902,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

ডা. সুলেমান খান

জন্ম – ১৯৪০

“আদর্শ ও চারিত্রিক দৃঢ়তার এক অনন্য প্রতীক”

১৯৪০ সালে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শেখদী গ্রামে ডা. সুলেমান খান জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। উনসত্তর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নি ডাক্তার হিসেবে কাজ করার পর তিনি টঙ্গী জুট মিলের চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন।

বামপন্থী রাজনীতির সাথে যুক্ত ডা. সুলেমান খান নিজের আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন সবসময় অবিচল। তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার জন্যই সবার কাছে বেশি প্রিয় ছিলেন। উদীচী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। এ সংগঠনের গণসংগীতের প্রথম দিকের ক্লাসগুলো ঢাকায় তাঁর গোপীবাগের বাড়িতে হতো। গোপীবাগের তরুণদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘তরঙ্গ’ নামে একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। উনসত্তরের গণ-আন্দোলনসহ পরবর্তী আন্দোলনে এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালে কিশোর মতিউর শহীদ হবার পর পাকিস্তানি পুলিশ যখন মতিউরের লাশ খুঁজছিলো তখন ডা. সুলেমান খান অন্যান্যদের সাথে মিলে সেই লাশ অতি গোপনে ও সাবধানে দাফন করেছিলেন।

১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের পর তিনি ও তাঁর স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। সেখানে থেকেই চাঁদপুর জেলার গুলিবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। গ্রামের বাড়ী চলে আসার একমাস পর ২৫ এপ্রিল রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসররা তার বাসার দরজা ভেঙ্গে তাঁকে শনাক্ত করে সরাসরি গুলি চালায়। আহত ডা. সুলেমান খানকে চাঁদপুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে ২৬ এপ্রিল ভোরবেলা স্বাধীনতার এই যোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেন।