Martyred Intellectuals | গোলাম হোসেন
864
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-864,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

গোলাম হোসেন

জন্ম – ১৯১৯

“হুংকারে নড়ে গিয়েছিলো হানাদারের অহংকার!”

ব্রিটিশ আমলের পুলিশ সুপার খান সাহেবের পুত্র গোলাম হোসেন। ১৯১৯ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়াতে জন্মগ্রহণ করেন।

গোলাম হোসেন ১১ বছর বয়সে ইউরোপ চলে যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করে কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। আইএ প্রথম বিভাগে পাশ করে স্কলারশিপ পান।

বিএ পড়ার সময়েই ১৯৪৩-৪৪ সালে বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিসে সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন। এরপর ১৯৪৮ সালে বিয়ে করে সংসার পাতেন। নানা সময়ে গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, চুয়াডাঙ্গা এবং মেহেরপুরে কর্মরত ছিলেন। একাত্তরে তিনি বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বরিশালের পুলিশ সুপারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি স্থানীয় সাংসদ নুরুল ইসলাম মঞ্জু ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অধিনায়ক মেজর জলিলের হাতে ১০০টি রাইফেল তুলে দেন। ২৯শে মার্চ পুলিশ সমাবেশে তিনি জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। মূলত পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে জাগ্রত করার জন্য এই ভাষণ। পরে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার খুলে দিয়ে সমস্ত রাইফেল তুলে দেন স্বেচ্ছাসেবক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে।

কয়েকজন সহকর্মীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী হন। এরপর তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে হত্যা করে অজ্ঞাত কোনো স্থানে মরদেহ মাটিচাপা অথবা নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। হত্যার সঠিক তারিখ পরিবারের সদস্যরাও জানেন না।