893
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-893,page-child,parent-pageid-646,stockholm-core-1.0.0,select-theme-ver-5.0.6,ajax_fade,page_not_loaded,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

এ কে শামসুদ্দিন

জন্ম – ২ আগস্ট, ১৯৪৩

“প্রতিবাদী এক কর্নেলের গল্প”

এ কে শামসুদ্দিনের জন্ম হয় উনার নানাবাড়ি টাঙ্গাইল শহরে, ১৯৪৩ সালের ২ আগস্ট।

তিনি তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন গয়হাটা মাইনর স্কুলে। সেখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ঢাকার নবাবপুর গভ. হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে নটরডেম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় । এরপর পাকিস্তান সরকারের ইন্টার উইং স্কলারশিপ নিয়ে লাহোর গভর্নমেন্ট কলেজে কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়তে যান। অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বাঙালিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘সায়গল স্কলারশিপ’ পান। এ কলেজ থেকেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে বিএসসি পাশ করেন। পরবর্তীকালে এমএসসি পরীক্ষায়ও তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দেন।

একাত্তরে সিরাজগঞ্জ মহকুমার প্রশাসক (এসডিও) ছিলেন এ কে শামসুদ্দিন। ২৫ মার্চ রাত থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞের তাণ্ডব শুরু করলে তিনি দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। সরকারি উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রত্যক্ষভাবে স্থানীয় প্রতিরোধযোদ্ধাদের (পরে মুক্তিবাহিনী) সহায়তা করেন। একাত্তরের ৮ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দলের আরিচা ঘাটে পৌঁছানোর খবর শুনে তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজে স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ট্রেজারিতে থাকা রাইফেল তুলে দেন। পরে তাঁর নেতৃত্বেই বাঘাবাড়ী ঘাট ও নগরবাড়ী ঘাটে মুক্তিযোদ্ধারা সুদৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উনার এই বীরত্বের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে উপাধি দেন কর্নেল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় উনার স্ত্রী ছিলেন সন্তানসম্ভবা। স্ত্রীকে একবার দেখার জন্য তিনি গোপনে ঢাকায় আসেন। কিন্তু স্থানীয় রাজাকাররা খবর পেয়ে যায় এবং ১৭ মে তাঁকে তাঁর বাসা থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আটক করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায়। সেখানে সেনাবাহিনীর মেজর সরফরাজের নেতৃত্বে তাঁর ওপর অকথ্য ও অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ১৯ মে পাক হানাদার বাহিনী তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।