Martyred Intellectuals | অধ্যাপক আরজ আলী
1286
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-1286,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

অধ্যাপক আরজ আলী

জন্ম – ১৯৪৫

“এক কিংবদন্তী শিক্ষকের গল্প

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আরজ আলী ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯৪৫ সনে বিরিশিরি ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সনে কৃতিত্বের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালীন সময়ে ডাকসুর ইকবাল হল শাখায় একটি সম্পাদকীয় পদেও তিনি নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের পরপরই তিনি ইশ্বরগঞ্জ কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি শিক্ষক হিসেবে ঐ এলাকায় এতোটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, কারো বাসায় ভালো কিছু রান্না হলে তাঁর জন্যে এর অংশবিশেষ পাঠানো হতো। ১৯৭০ সনের জানুয়ারী মাসে তিনি তাঁর স্বীয় ও প্রিয় কলেজ বর্তমান নেত্রকোণা সরকারী মহাবিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যাপক আরজ আলী খুবই ভালবাসতেন দেশকে আর জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে, খুব সহজেই তাদেরকে আপন করে নিতেন। স্বপ্ন দেখতেন শোষণ-বঞ্চনা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশের, চিন্তা করতেন সাধারণ মানুষের সার্বিক মঙ্গল ও উন্নয়নের। প্রতিবাদী এ ব্যাক্তিটি ঘৃণা করতেন অন্যায়, অসত্য, দূর্নীতি ও গণবিরোধী নীতিকে।

১৯৭১ সনের আগষ্ট মাসের শুরুতে পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী ও এদের এদেশীয় রাজাকারেরা উনার বাড়ীঘর লুট ও অগ্নিসংযোগ করে। ১২ই আগস্ট মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দানের অভিযোগে বর্তমান নেত্রকোণা সরকারী কলেজের টিচার্স মেস থেকে উনাকে গ্রেফতার করা হয়। পাকিস্তানিদের প্রতি বশ্যতা স্বীকার করার জন্য তাঁর উপর বর্বরোচিত দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলার জন্য জোর করলেও উনি তীব্র ঘৃণাভরে তা প্রত্যখ্যান করেন। ১৬ই আগষ্ট সকাল বেলা সোমেশ্বরী নদীর তীরে নিয়ে তাঁকে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করা হয়। অনেকের মুখে শোনা যায় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও তিনি উচ্চারণ করেছিলেন “জয়বাংলা”।