Martyred Intellectuals | অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার
906
page-template,page-template-full_width,page-template-full_width-php,page,page-id-906,page-child,parent-pageid-646,ajax_fade,page_not_loaded,,select-theme-ver-4.6,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.5,vc_responsive

অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব তালুকদার

জন্ম – ৩ জানুয়ারি, ১৯৪৩

“একজন সংস্কৃতিমনা মুক্তিযোদ্ধার কথা”

অধ্যাপক ওয়াহাব তালুকদার ১৯৪৩ সালের ৩ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্বিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার কালমাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হবার পর পরিবারের অন্যান্যদের সাথে বর্তমান কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলাধীন সিংঝাড় গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ভূরুঙ্গামারী পাইলট স্কুল থেকে ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিক, রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে আইএ ও ১৯৬২ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন।

আব্দুল ওয়াহাব শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমান কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি একজন ক্রীড়ামোদি ও সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন। তাঁর কলেজের সবাই তাঁকে খুব পছন্দ করতো। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং ৬নং সেক্টরের অধীনে বামনহাট যুব শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের ৭ই আগস্ট ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বগনী নদীর উপর অবস্থিত রেল ব্রীজে একদল মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি দেখতে এসেছিলেন। সেই সময় পাকবাহিনীর অতর্কিত ব্রাশ ফায়ারে প্রথমে তিনি আহত হন। সেখানে রেললাইন ছিল জঙ্গলে পরিপূর্ণ। তিনি দৌড়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেন। সেনারা জঙ্গল থেকে তাঁকে খুঁজে বের করে। সেখানেই তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। তারপর তাঁর লাশ একটি ডোবায় ফেলে রেখে চলে যায়। তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ভারতের অন্তর্গত বগনী নদীর কিনারে কালমাটি মসজিদ চত্বরে সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার জন্য তাঁর প্রাণ দেয়া বৃথা যায়নি বলেই লাল-সবুজের পতাকায় তিনি মিশে থাকবেন সব সময়।